লন্ডনে বাংলা সংগীত শিক্ষালয় ‘সুরালয়’-এর শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ বরণ উৎসব উদ্যাপন করেছে। বসন্তের রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে পূর্ব লন্ডনের ভ্যালেন্টাইনস পার্কের আলোছায়াময় পরিবেশে গত বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) বর্ষবরণের এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.co
বর্ণাঢ্য উৎসবটি জমে ওঠে গানে গানে, শিশু-কিশোরদের আনন্দোচ্ছল পদস্পন্দনে এবং হরেক রকম সুস্বাদু ভর্তা, ইলিশভাজা ও মজাদার মিষ্টান্নের সমাহারে। আয়োজনটি শুরু হয় সুরালয়ের সংগীত শিক্ষাগুরু গৌরী চৌধুরীর নেতৃত্বে সমবেত কণ্ঠে ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’ গানটি দিয়ে। এতে একঝাঁক সম্ভাবনাময় শিশু-কিশোরের সঙ্গে অংশ নেন বড়রাও। পার্কের নয়নাভিরাম পরিবেশে মুহূর্তে সমবেত কণ্ঠে ছড়িয়ে পড়ে বাংলা গানের মধুর সুরের আবেশ। অবাঙালি পথচারীদের অনেকেই যাত্রাপথে থেমে মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেন তাঁদের পরিবেশনা।
দলীয় পরিবেশনা শেষে এককভাবে গান পরিবেশন করে সবাইকে মুগ্ধ করে শিশুশিল্পী স্নিগ্ধা, জায়া, রিঅঞ্জ, রাজকন্যা, রূপকথা, উদিতি, বিরজাসহ অনেকে। তাঁদের কেউ গায় ‘এ কী লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণ’, ‘কেউ রাঙামাটির রঙে চোখ জুড়াল’, কেউ ‘আহা, আজি এ বসন্তে/ এত ফুল ফুটে, এত বাঁশি বাজে, এত পাখি গায়’, আবার কেউ গায় ‘বুলবুল পাখি, ময়না-টিয়ে/ আয় না, যা না গান শুনিয়ে’ ইত্যাদি।

শিশুকিশোরদের কাছে বর্ষবরণকে আনন্দময় করতে তাদের জন্য রাখা হয় বিভিন্ন প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতায় কৃতিত্ব অর্জনকারী এবং অংশগ্রহণকারীদের জন্য ছিল পুরস্কার। আয়োজনটিকে উপভোগ্য করতে অভিভাবকেরা নিজেদের পছন্দমতো খাবার তৈরি করে নিয়ে আসেন। কেউ নিয়ে আসেন ইলিশভাজা, কেউ ভর্তা, কেউ চিকেন কারি, কেউ দই বড়া, আবার কেউ টিরামিসু, কালোজাম ও চমচম।

অনুষ্ঠানে আসন্ন নির্বাচনে রেডব্রিজ কাউন্সিলের বার্কিংসাইডে লেবার পার্টির কাউন্সিলর পদপ্রার্থী সৈয়দা ফেরদৌসি পাশা এবং কবি ও সাংবাদিক সারওয়ার-ই আলম শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। সৈয়দা পাশা তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ শিশু-কিশোরদের বাংলা সংগীত শিক্ষায় গৌরী চৌধুরীর ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, সুরালয় শুধু বাংলা সংগীত শিক্ষাই নয়, বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশেও প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে। সারওয়ার-ই আলম সুরালয়ের কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, বাঙালির ঐতিহ্যবাহী অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও গৌরবোজ্জ্বল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গৌরবগাথা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ শিশুকিশোরদের মনে ছড়িয়ে দিতে সুরালয়ের মতো সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। তিনি এ সংগীত শিক্ষালয়ের উত্তরোত্তর বিকাশ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

বর্ষবরণের এ আয়োজনে সুরালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে অংশ নেন শিক্ষালয়টির শুভাকাঙ্ক্ষী ও সংস্কৃতি–অনুরাগী মোহাম্মদ আবদুর রাকীব, সংগীতশিল্পী রিপা রাকীব, সংস্কৃতি–অনুরাগী স্বপন নন্দী, সাপ্তাহিক সত্যবাণীর সম্পাদক সৈয়দ নাহাস পাশা, টেলিভিশন সংবাদপাঠক রিনা দাস, টেলিভিশন উপস্থাপক শামীমা মিতা প্রমুখ।
