এই সত্যটি পৃথিবীর বহু দেশ দ্রুত উপলব্ধি করেছিল। তারা মহামারিকে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে নিয়েছিল। কোথাও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা হয়েছে, কোথাও রোগতত্ত্ব নজরদারি ও ল্যাব সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে, কোথাও স্থানীয় পর্যায়ে অক্সিজেন সরবরাহব্যবস্থা স্থায়ী করা হয়েছে, কোথাও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ, তথ্যব্যবস্থা ও জরুরি প্রস্তুতির কাঠামো শক্তিশালী করা হয়েছে। তারা বুঝেছে, মহামারি শেষ মানেই ঝুঁকি শেষ নয়; বরং ভবিষ্যতের সংকট ঠেকাতে এখনই বিনিয়োগ করতে হবে।

কিন্তু দুঃখজনক সত্য হলো, আমরা কোভিড থেকে এই মৌলিক শিক্ষা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে গ্রহণ করিনি। কোভিডের সময়ে জরুরি প্রয়োজনের চাপে কিছু পরিবর্তন হয়েছিল—আইসিইউ শয্যা বেড়েছিল, সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছিল, পরীক্ষা ও নজরদারির কিছু সক্ষমতা তৈরি হয়েছিল, সংকট ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনিক সমন্বয়ের একটি তাগিদ দেখা গিয়েছিল। কিন্তু মহামারি যখন দৃশ্যত কমে এল, তখন সেই অভিজ্ঞতাকে স্থায়ী সংস্কারে রূপান্তর করার যে রাষ্ট্রীয় দায় ছিল, আমরা তা পূরণ করতে পারিনি।

ফলে আজ হামে শিশুমৃত্যুর মতো ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে: আমরা এখনো প্রতিরোধমূলক রাষ্ট্র হয়ে উঠতে পারিনি; এখনো আমরা মূলত প্রতিক্রিয়াশীল। অর্থাৎ সংকট দেখা দিলে আমরা নড়েচড়ে বসি, কিন্তু সংকট আসার আগেই প্রস্তুতি নিই না। রোগ ছড়িয়ে পড়ার পর সভা করি, মৃত্যুর পর বিবৃতি দিই, সংবাদে এলে তৎপর হই—কিন্তু ঝুঁকি আগে থেকে চিহ্নিত করা, মাঠপর্যায়ের সক্ষমতা বাড়ানো, তথ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করা, জরুরি সাড়ার কাঠামো সক্রিয় রাখা—এসবকে নিয়মিত রাষ্ট্রীয় চর্চায় পরিণত করতে পারিনি।



Source link