শহরাঞ্চলের মূল্যস্ফীতিও সমানভাবে উদ্বেগের বিষয়। শহরে সাধারণ মূল্যস্ফীতি মার্চের ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ থেকে বেড়ে এপ্রিলে ৯ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ হয়েছে। শহুরে পরিবারের ব্যয়ের ধরন গ্রামীণ পরিবারের চেয়ে ভিন্ন। এখানে বাসাভাড়া, পরিবহন, শিক্ষা, চিকিৎসা, গ্যাস-বিদ্যুৎ, পানি, শিশুর যত্ন, এবং বাজারনির্ভর খাদ্য ব্যয় পরিবারের বাজেটে বড় অংশ দখল করে। শহরের নিম্নমধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষ প্রায় সবকিছুই বাজার থেকে কিনে চলে; তাদের নিজস্ব উৎপাদন বা পারিবারিক সহায়তার সুযোগ কম। ফলে খাদ্যপণ্যের দাম সামান্য বাড়লেও, সঙ্গে ভাড়া ও সেবা খরচ বেড়ে গেলে মাসের বাজেট দ্রুত ভেঙে পড়ে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট বেতনের কর্মী, পোশাকশ্রমিক, ক্ষুদ্র সেবা খাতের কর্মী, রিকশাচালক, দোকান কর্মচারী এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের ওপর এই চাপ বেশি পড়ে। শহুরে মূল্যস্ফীতি তাই শুধু বাজারদরের বিষয় নয়; এটি নগরজীবনের ক্রমবর্ধমান অনিরাপত্তারও প্রতিফলন।

এই পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতিকে শুধু মুদ্রানীতির বিষয় হিসেবে দেখলে হবে না। সুদের হার, ঋণপ্রবাহ বা মুদ্রা সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব আছে, কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান মূল্যস্ফীতির বড় অংশ সরবরাহ ব্যবস্থা, আমদানি ব্যয়, বিনিময় হার, জ্বালানি খরচ, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং প্রত্যাশার সঙ্গে যুক্ত। তাই সমন্বিত নীতি দরকার। খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলা শক্তিশালী করতে হবে। বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে হবে। মজুতদারি ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে কার্যকর তদারকি দরকার। আমদানি সিদ্ধান্তও সময়মতো নিতে হবে, যাতে বাজারে ঘাটতির সংকেত তৈরি না হয়। একই সঙ্গে কৃষি উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন ও পাইকারি বাজার ব্যবস্থায় অদক্ষতা কমাতে হবে।



Source link