কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা বলছে ভিন্ন কথা। ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের সময়ও পশ্চিমা গণমাধ্যমে গণবিধ্বংসী অস্ত্রের যে দাবি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছিল, তা পরবর্তীকালে সত্য বলে প্রমাণিত হয়নি। সে সময়ের সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতা আজও প্রশ্নবিদ্ধ।
বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, চাপের মুখেও ইরানি রাষ্ট্রকাঠামো অনেক বেশি দৃঢ়ভাবে টিকে আছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি বরং জাতীয় ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু এ বাস্তবতা অনেক সময় গণমাধ্যমের প্রচলিত গল্পের সঙ্গে মেলে না।
ফলে একধরনের বিভাজন তৈরি হচ্ছে—একদিকে মাঠের বাস্তবতা, অন্যদিকে সংবাদনির্ভর কল্পচিত্র। অনেক ক্ষেত্রে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্রও আড়াল হয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে এ সময়কে তথ্যযুদ্ধের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হবে। যেখানে সাংবাদিকতা, প্রচার, মনস্তাত্ত্বিক অভিযান ও বিনোদনের সীমারেখা একে অপরের সঙ্গে মিশে গেছে।
একসময় এই যুগকে পড়ানো হবে, কীভাবে তথ্য সত্যের চেয়ে দ্রুত ছড়ায় এবং কীভাবে গল্প বাস্তবতাকে ছাপিয়ে যায়। কারণ, শেষ পর্যন্ত যদি গল্পটি বিক্রি হয়, তবে সত্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা আর বিবেচনায় থাকে না।
-
তানিয়া গৌদসুজিয়ান আল–জাজিরা ইংলিশ অনলাইনের সাবেক মতামত সম্পাদক ও ইব্রাহিম আল-মারাশি মধ্যপ্রাচ্য ইতিহাসের সহযোগী অধ্যাপক।
মিডল ইস্ট আই থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনূদিত।
