সমস্যাগ্রস্ত পাঁচ ইসলামি ব্যাংকে বিতর্কিত মালিকদের ফেরার সুযোগ রাখবে না সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের যে ধারায় এই সুযোগ রাখা হয়েছিল, সেটা বাতিল করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বিএনপি সরকার গত ১০ এপ্রিল অন্তর্বর্তী সরকারের করা ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করে। আইনটি সংসদে পাসের আগে ১৮ (ক) নামে একটি নতুন ধারা যুক্ত করা হয়।
এই ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক রেজোল্যুশনের আওতায় যাওয়ার আগে যাঁরা এর শেয়ার ধারক ছিলেন, তাঁরা চাইলে পরে আবার সেই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করতে পারবেন। বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকেও এ সুযোগ দিতে পারবে।
অবশ্য এর জন্য আবেদনকারীকে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া সব অর্থ ফেরত দেওয়াসহ বিভিন্ন শর্ত পূরণের অঙ্গীকার করতে হবে।
ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনে নতুন ধারাটি যুক্ত করার পর বিতর্ক তৈরি হয়। সংসদে বিরোধী দলগুলো বলতে থাকে, এস আলমসহ বিতর্কিত ব্যবসায়ীদের হাতে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দিতেই এই ধারা যুক্ত করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ অনুযায়ী গত বছরের ২ ডিসেম্বর এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী—এই পাঁচ ব্যাংক একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে। এর মধ্যে নাসা গ্রুপের মালিকানাধীন এক্সিম ব্যাংক ছাড়া বাকি চারটিই ছিল এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণাধীন।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ মো. জাহিদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ১৮ (ক) ধারা বাতিল হলে তা হবে ভালো সংবাদ। তবে দেখতে হবে পুরোপুরি বাতিল হবে, নাকি বদলে আবার নতুন কিছু যুক্ত হবে।
