দক্ষিণ এশিয়া: সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি, সবচেয়ে কম দায়

জলবায়ু পরিবর্তনের এক নিষ্ঠুর অসাম্য হলো যারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে, তারা সবচেয়ে কম কষ্ট পাচ্ছে; আর যারা ঐতিহাসিকভাবে অতি সামান্য কার্বন নিঃসরণ করেছে, তারাই আজ সবচেয়ে বেশি বিপদে।

দক্ষিণ এশিয়া এই অসাম্যের সবচেয়ে বড় শিকার। ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা—এই অঞ্চলের দেশগুলো বৈশ্বিক মোট কার্বন নিঃসরণের মাত্র ৪ থেকে ৫ শতাংশের জন্য দায়ী; কিন্তু জলবায়ু ঝুঁকি সূচকে এই দেশগুলো বারবার শীর্ষে উঠে আসছে।

২০২৫ সালে পাকিস্তানের বেলুচিস্তান ও সিন্ধুতে তাপমাত্রা ৫২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে। ভারতের উত্তর প্রদেশ ও বিহারে তাপপ্রবাহে কৃষকের মৃত্যুর খবর এখন আর ‘বিরল ঘটনা’ নয়, এটি এক ভয়াবহ নতুন স্বাভাবিকতা। নেপালের হিমালয়ের হিমবাহ এত দ্রুত গলছে যে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন—আগামী ৫০ বছরে এই অঞ্চলের নদীগুলো প্রথমে ভয়াবহ বন্যায়, পরে দীর্ঘমেয়াদি খরায় বিপর্যস্ত হবে।

বাংলাদেশের অবস্থান এই ভূগোলে সবচেয়ে সংকটজনক। মাত্র ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গকিলোমিটারের এই দেশে প্রায় ১৮ কোটি মানুষের বাস। এই ঘনবসতিপূর্ণ জনপদে পরিবেশ বিপর্যয়ের মূল্য বহু গুণ বেড়ে যায়। কারণ, অসংখ্য মানুষের জীবন ও জীবিকা একসঙ্গে বিপন্ন হয়।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা মাত্র এক মিটার বাড়লে বাংলাদেশের প্রায় ১৭ শতাংশ ভূমি তলিয়ে যেতে পারে। উপকূলের কয়েক কোটি মানুষ তখন কোথায় যাবেন—এই প্রশ্ন ২০০৯ সালে কোপেনহেগেনের কপ-১৫–এর আগে থেকেই জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। তবে কাঙ্ক্ষিত উত্তর এখনো মেলেনি; বরং নানা অজুহাতে জলবায়ু ক্ষতিপূরণের বিপুল অর্থ যথাযথ গন্তব্যে পৌঁছায়নি।



Source link