মাঝেমধ্যে ‘রিফাইনড আওয়ামী লীগের’ কথা শোনা যায়। কে কে নেতৃত্ব দিতে পারেন, এ রকম কিছু নাম বাতাসে ভেসে বেড়ায়। সমস্যা হলো, শেখ হাসিনা দলের সভাপতির পদ ছাড়বেন না। তিনি ভালো করেই জানেন, তাঁর ক্ষমতার উৎস হচ্ছে এই পদ। এটি একবার ছেড়ে দিলে দলের কী হবে, তা নিয়ে তাঁর মাথাব্যথা নেই। কিন্তু পদ হারালে যে তাঁর আর কোনো জায়গা থাকে না, এটি তিনি হাড়ে হাড়ে বোঝেন। সে জন্য আওয়ামী লীগ ফিরলে হাসিনাকে নিয়েই ফেরার চেষ্টা করবে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি সম্ভব নয়।

শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ডের আসামি। ফাঁসির দড়িতে ঝুলতে তিনি হাসিমুখে ফিরে আসবেন, এটি আকাশকুসুম কল্পনা। তিনি নিজেকে ও তাঁর পরিবারকে দেশ ও দলের চেয়ে বেশি ভালোবাসেন, এটা কে না জানে। দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে, এটা যদি হাসিনা না জানতেন তাহলে চমৎকার একটা পরিকল্পনা সাজিয়ে তাঁর পরিবার ও আত্মীয়দের আগেই বিদেশে পাঠিয়ে দিলেন কীভাবে! এ রকম স্বজনপ্রেম দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। থেকে গেলেন এবং ধরা খেলেন শুধু একজন আত্মীয়, আমির হোসেন আমু। ‘সংস্কারবাদী’ হয়ে তিনি হাসিনার চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছিলেন। আর থেকে গেলেন অনেক নেতা-কর্মী, যাঁদের কাছে আওয়ামী লীগ হলো ‘ধর্ম’।

হাসিনা স্বেচ্ছায় ফিরবেন না। ‘সাহস থাকলে দেশে আয়’ বলে হুংকার দিলেও তিনি আসবেন না। শতভাগ নিরাপত্তার আশ্বাস না পেলে কেউ আসে না।

হাসিনার মনে কী আছে কে জানে। তবে আওয়ামী লীগের অনেকেই মনে করেন, বাইরের কোনো শক্তি তাঁদেরকে আবারও ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে। এই আশার পিদিম জ্বালিয়ে তাঁরা মাঝেমধ্যে ‘জয় বাংলা’ বলে চেঁচিয়ে ওঠেন এবং নিজেদের অবস্থান জানান দেন।



Source link