সালামির স্মৃতি, চোখে জল তামান্নার
পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন আজ শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরে তারেকের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, চারপাশে ঈদের আনন্দ, রঙিন পোশাক আর শুভেচ্ছার ভিড়। কিন্তু সেই আনন্দ যেন ছুঁয়ে যায় না এই পরিবারকে। বাসার ভেতরটায় এখন শুধু শোকের ভার। আত্মীয়স্বজন আসছেন, সান্ত্বনা দিচ্ছেন—তবু শূন্যতা কাটছে না।
তাসমিম তামান্নাদের এবারের ঈদের গল্প এমন করুণ হওয়ার কথা ছিল না। ২৭ বছর ধরে প্রবাসে থাকা এস এম তারেকের গত ১৫ বছরে দেশে ঈদ করা হয়নি। তাই এবার দেশেই পবিত্র ঈদুল ফিতর ও পবিত্র ঈদুল আজহা পালনের পরিকল্পনা করেছিলেন। স্ত্রী রোকেয়া বেগম ও মেয়ে তাসমিমসহ ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপ করে রেখেছিলেন। জানিয়েছিলেন, ছুটি পেলেই রোজার মধ্যে দেশে আসবেন। তবে যুদ্ধ একদিকে তারেকের জীবনপ্রদীপ নিভিয়ে দিয়েছে, তেমনি দেশে থাকা পরিবারের সব স্বপ্ন-সাধ রুদ্ধ করেছে।
ঈদের দিন ঘুরেফিরে বাবার স্মৃতি মনে পড়ছে তাসমিমের। এসব স্মৃতির কথা স্মরণ করতে গিয়ে কখনো নীরবে, কখনো আর্তনাদ ফুটে উঠছিল এই তরুণীর।
ঈদের সময় বাবাকে কাছে না পাওয়ার একটি চাপা কষ্ট সব সময় ছিল তাসমিমের। মেয়ের এমন দুঃখের কথা জানতেন বাবা এস এম তারেক। তাই চাঁদরাত থেকে শুরু করে ঈদের দিন, পরদিন—মেয়ের সঙ্গে দফায় দফায় ভিডিও কলে কথা বলতেন। ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের অনুরোধ করে মেয়ের কাছে নিয়ে আসতেন। মেয়ের ঈদের আনন্দে যাতে কোনো ভাটা না পড়ে, সে জন্য আগেই স্ত্রীর কাছে টাকা পাঠিয়ে দিতেন। তা দিয়ে কেনা হতো নতুন জামা–জুতা। একই সঙ্গে ঈদের সালামিও দিতে ভুলতেন না।
