তবু কর্মক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বঞ্চনা রয়ে গেছে। বিশ্বব্যাপী বেকারত্বের হার প্রায় ৫ শতাংশ, অর্থাৎ ১৯ কোটি মানুষ বেকার। যুব বেকারত্বের হার ১২ শতাংশ, যা সামগ্রিক হারের দ্বিগুণের বেশি। বিশ্বে ২৪ কোটির বেশি শ্রমিক চরম দারিদ্র্যে বসবাস করেন, অর্থাৎ তাঁরা দৈনিক ২ দশমিক ১৫ ডলারের কম আয় করেন। প্রভূত মানবসম্ভাবনা এখনো ব্যবহার করা হয়নি। বিশ্বে ১৫০ কোটির বেশি মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ কর্মসংস্থানে রয়েছে।
প্রায় ১৩ কোটি ৮০ লাখ মিলিয়ন শিশুশ্রমিক রয়েছে, যাদের মধ্যে ৭ কোটি ৯০ লাখ ছেলে ও ৫ কোটি ৯০ লাখ মেয়ে। ২০২৪ সালে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ মানুষ জোরপূর্বক শ্রমে নিযুক্ত ছিল, যা থেকে প্রায় ২৩ কোটি ৬০ লাখ মিলিয়ন ডলার মুনাফা অর্জিত হয়েছে তাদের জন্য, যারা এই বাধ্য শ্রমকে নিয়ন্ত্রণ করে। সারা বিশ্বে শোভন কাজের সংখ্যা কমছে। এ সবকিছুর অর্থ হচ্ছে যে মানব অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে এবং বিদ্যমান বঞ্চনা দূর করতে অবশিষ্ট মানবসম্ভাবনাকে সর্বোত্তমভাবে কাজে লাগাতে হবে।
এ ছাড়া কাজের জগৎ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে—কাজের সংজ্ঞা, কাজের পরিধি এবং কাজের প্রক্রিয়া, সবকিছুই বদলে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের প্রধান চালিকা শক্তি হলো বিশ্বায়ন ও তথ্যপ্রযুক্তির বিপ্লব। বর্তমানে বৈশ্বিক বাণিজ্যে পণ্য ও সেবা বাণিজ্যের পরিমাণ ৩৫ লাখ কোটি ডলার, যা ১০ বছর আগের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। বিশ্বে ৯০০ কোটির বেশি মুঠোফোনের সংযোগ রয়েছে এবং ৬০০ কোটির বেশি মানুষ আন্তযোগাযোগ ব্যবহার করে।
এই পরিবর্তন নিশ্চয়ই নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছে, তবে সেই সঙ্গে ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বিজয়ী যেমন আছে, তেমনি বিজিতও আছে। বৈশ্বিক মূল্যশৃঙ্খলে ৪৫ কোটি মানুষ কাজ করছে, যার মধ্যে ১৯ কোটি নারী। দক্ষ কর্মীর জন্য এখনই সবচেয়ে ভালো সময়, আর অদক্ষ কর্মীর জন্য সবচেয়ে খারাপ সময়।
