এই দীর্ঘসূত্রতার পেছনে যে ‘ঠিকাদারি সংস্কৃতির’ চিত্র উঠে এসেছে, তা আমাদের উন্নয়ন প্রকল্পের এক চেনা ব্যাধি। মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়ে তা অন্য একজনের কাছে ‘বিক্রি’ করে দেয়। এরপর রাজনৈতিক অস্থিরতা, মামলা বা ব্যক্তিগত অপারগতার অজুহাতে বছরের পর বছর কাজ ফেলে রাখা হয়। এলজিইডির কর্মকর্তারা বলছেন, ঠিকাদারকে বারবার তাগাদা দিয়েও কাজ করানো যায়নি এবং এখন নতুন করে দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে।
প্রশ্ন হলো, চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করা এবং বছরের পর বছর প্রকল্প ঝুলিয়ে রেখে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অপরাধে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কেন এত দিন কোনো শাস্তিমূলক বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলো না? কেন তাদের কালোতালিকাভুক্ত করা হলো না? আমাদের দেশে ঠিকাদারদের এই দায়হীনতা ও পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতিই মূলত এ ধরনের অরাজকতাকে টিকিয়ে রাখছে।
আমরা আশা করি, এলজিইডি কর্তৃপক্ষ আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করবে এবং জরুরি ভিত্তিতে সেতুর বাকি কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেবে।
