দীর্ঘ সময় বাঁধে কাটানোর পর বাধ্য হয়ে বাঁধসংলগ্ন খাসজমিতে ঘর তোলেন তাঁরা। কিন্তু নতুন ঘরেও জীবিকার নিশ্চয়তা ছিল না। সংসার চালাতে হিরা নেমে পড়েন নোনাপানিতে। নেট দিয়ে বাগদার পোনা ধরতেন তিনি, স্বামী চালাতেন ভ্যানগাড়ি।
সব হারানোর পরও স্বপ্ন ছাড়েননি হিরা। বরং নতুন করে মিষ্টির ব্যবসা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু সমস্যা ছিল, তিনি শুধু সাধারণ মিষ্টি বানাতে জানতেন; ছানার মিষ্টি বানাতে জানতেন না। কাজ শেখার জন্য একদিন পাশের এলাকার একজন প্রবীণ মিষ্টি কারিগরের কাছে যান। হিরার ভাষায়, ‘আমি যাইয়ে বললাম, দাদু, আমি একটু মিষ্টি বানানি শেখপো। উনি বললেন, টাকা কিন্তু দিতি পারব না। আমি বললাম, আমার টাকা লাগবি না, শুধু কাজ শিখাই দেন। তারপর ওনার কাছ থেইকে রসগোল্লা, চমচম, কালোজাম বানানি শিখিছি।’
সেই শেখা হাতেই এখন নতুন করে তৈরি হচ্ছে সংসারের স্বপ্ন। গত বছর আবার একটি মিষ্টির দোকান গড়ে তুলেছেন তাঁরা। এ জন্য ৬০ হাজার টাকা ঋণ নেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা থেকে। এখনো প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা কিস্তি দিতে হয়। হিরা বলেন, ‘স্বামী-স্ত্রী মিলি দোকান চালাতিছি। যেদিন বিক্রি কম হয়, সেদিন আবার গাঙে নামতি হয়। স্বামীও মাঝেমধ্যি দিনমজুরি করে। বসে থাকলি চলে না।’
