‘পুশ ইন’ নিয়ে সীমান্তে উত্তাপ এবং ভ্রমণ ও বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার প্রশ্নে বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘ভারত ও বাংলার একই আকাশ, একই বাতাস, একই যন্ত্রণা। আমার তো মনে হচ্ছে না আমি বাংলাদেশে এসেছি। ভারতের ১৪০ কোটি আর বাংলাদেশের ২০ কোটি, এই ১৬০ কোটি জনগণের জন্য যা ভালো হয়, সেটাই করা হবে। দুই দেশের জন্য ভালো হয়, সেই পদক্ষেপ সামনের দিনে নেব।’
দীর্ঘদিন রাজনীতির মাঠ চষে বেড়িয়ে হাল আমলে কূটনীতিকের দায়িত্ব নেওয়া দিনেশ ত্রিবেদীর এই কথা নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, মানুষের কথা ভাবলে তাঁর এই বক্তব্যে দুই দেশের নাগরিকদের জন্য একটি আশার বাণীও আছে। তবে সেই আশার বাস্তব প্রতিফলন হবে তখনই, যখন সীমান্তের মানুষগুলোকে রাজনৈতিক বক্তব্যের বিষয় নয়, মানবিক মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের একটি বাঁকবদলের সময়ে দিল্লি নিশ্চয় বুঝেশুনেই পেশাদার রাজনীতিবিদ দিনেশ ত্রিবেদীকে ঢাকায় দূত হিসেবে পাঠিয়েছেন। সম্পর্কের মানোন্নয়ন চাইলে প্রতিবেশীর প্রতি বুদ্ধির মারপ্যাঁচের চাইতে হৃদয় দিয়ে ভাবতে হবে।
‘পুশ ইন’ কেবল আইনে সীমাবদ্ধ নয়। শূন্যরেখায় থাকা মানুষগুলোকে স্রেফ সংখ্যা কিংবা রাজনীতির ময়দানে গোল দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার দৃষ্টিতে দেখলে রাষ্ট্রের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়। রাষ্ট্র গঠনের প্রধান চারটি উপাদানের অন্যতম জনগণ। সেই জনগণকেই যদি ভুগতে হয়, তাহলে রাষ্ট্রকাঠামোর সাফল্য নড়বড়ে হয়ে কি না, তা নিয়ে ভাবা দরকার আছে।
