পাকিস্তানিদের তীব্র হামলায় টিকতে না পেরে শহর থেকে যাওয়া মানুষজন পালাতে থাকে। শহরের নারী-শিশুরা কয়েক দিন আগেই শহর ছেড়ে ভারত সীমান্তের কাছের গ্রামগুলোতে আশ্রয় নিয়েছিল। ভারত ১৪ এপ্রিলের আগে সীমান্ত খুলে দেয়নি।

একেবারে শেষ সময় যখন হানাদার বাহিনী ও উন্মত্ত অবাঙালিরা মাত্র কয়েক শ মিটার দূরে, তখন হুইলচেয়ারে আসাদুল্লাহ বাড়ি থেকে বেরিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে এগোতে থাকেন। প্রতিবন্ধিতার কারণে অন্যদের থেকে তিনি অনেক পেছনে পড়ে যান। বাড়ি থেকে ১৫০–২০০ গজ দূরে জিলা স্কুলের ফটকের সামনে অবাঙালিরা তাঁকে ধরে ফেলে। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার পর তাঁকে ফেলে রাখে। কয়েক দিন পর শহর পরিষ্কারে নামা পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা তাঁকে রাস্তার পাশেই মাটিচাপা দেন। স্বাধীনতার পর পাড়ার তরুণেরা তাঁর কবরটি বাঁধানোর উদ্যোগ নেন।

আসাদুল্লাহর এক সহপাঠী এই লেখককে লিখেছেন, ‘…যে দিনাজপুর জিলা স্কুলের সামনে দিয়ে আমরা একসময় স্কুলে যেতাম, ঠিক সেখানেই সে শহীদ হয়। সেখানেই তাকে দাফন করা হয়।’

উনসত্তরে গুলি খেয়ে বেঁচে যাওয়া গণ–অভ্যুথানের সামনের সারির কর্মী আর একাত্তরের শহীদ আবু আহম্মদ আসাদুল্লাহর রাস্তার পাশের কবরটি এখনো পুরোপুরি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়নি। আমরা কবে শিখব আমাদের বীরদের মর্যাদা দিতে, তাঁদের মনে রাখতে, ইতিহাস লিখতে।

লেখক: গবেষক ([email protected])



Source link