করতোয়া নদী পুনঃখনন প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বগুড়া শহরের মৃতপ্রায় নদীটিতে প্রাণ ফিরিয়ে আনতে ও শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য যাচাই–বাছাইয়ের পর প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে।

জানতে চাইলে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিব এস এম শাকিল আখতার প্রথম আলোকে বলেন, ‘মরা নদীটি থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায় এখন। তাতে এলাকার মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাস নেওয়াও কষ্টকর। তাই মানুষের উপকারের জন্য প্রকল্পটি নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় নদীটি পুনঃখনন করে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা হবে। নদীর দুই পাশে পাড় বেঁধে কিছু জায়গায় বাচ্চাদের খেলার মাঠ তৈরি করা হবে।’

স্থানীয় মানুষের ভাষ্যমতে, একসময় এ নদী দিয়ে খুলনা থেকে নৌকায় করে নারকেল আসত। নদীকে ঘিরে জেলেদেরও জীবিকা নির্বাহ হতো। কিন্তু এরশাদ সরকারের আমলে বন্যা নিয়ন্ত্রণে নদীর উৎসমুখে বাঁধ নির্মাণ করা হলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। এ কারণে আশির দশক থেকে নদীটির শীর্ণ দশা শুরু। স্থানীয় মানুষেরা ২০১০ সাল থেকে ‘করতোয়া বাঁচাও আন্দোলন’ নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে নদী উদ্ধারে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন।

সংগঠনটির সদস্যসচিব ও পরিবেশবাদী সংগঠন বাপার বগুড়া জেলার সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জানান, আশির দশকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বালুতে নদীটির উৎসমুখ বন্ধ হয়ে যায়। এখন আবার পৌরসভার সব ড্রেন গিয়ে নদীতে পড়ছে। তাই দুর্গন্ধে মানুষ এখন নদীর পাড়ে যেতে পারে না।



Source link