নারায়ণগঞ্জেও ব্যাংকের কাজ শেষেই ছুটে যেতেন জেলা গণগ্রন্থাগারে। কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতি হলে, দায়িত্ব বাড়লে, বই পড়ার সময় কমে যেতে পারে। তাই কর্মজীবনে উন্নতির পেছনে ছোটেননি কখনোই। পদোন্নতি দেরিতে হলেই বরং খুশি হতেন। কর্মজীবনের সূত্রে স্রোতে ভাসতে ভাসতে এসে পড়েন রাজধানীতে। সেখানেই থিতু হন। স্ত্রী আছেন। এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক। ছেলে–মেয়ে প্রতিষ্ঠিত। তাঁরাও বই পড়েন।
বড় মেয়ে অনুপম আসিফা তৃণা সরকারি চাকরিজীবী। তিনি বললেন, ‘আব্বুকে যখনই দেখি বই পড়েন। বাংলা, ইতিহাস, দর্শন, ইংরেজি, বিজ্ঞান যে বিষয়েই যখন কিছু জানতে চেয়েছি, ভালো উত্তর পেয়েছি। অনেক সময় শিক্ষকদের কাছেও সেসব প্রশ্নের সঠিক উত্তর পাইনি।’ অনুপম আসিফা জানালেন, বাবাই তাঁদের বড় শিক্ষক।
বইপাগল মানুষটির জীবনসঙ্গী নুরুননাহার হেসে বললেন, আশপাশের অনেকেই জানতে চান স্বামীর সঙ্গে তাঁর কথা হয় কি না। কারণ, সবাই বেশির ভাগ সময় দেখতেন, তিনি নীরবে বই পড়ছেন।
