নাগানো (Nagano) ও পরে তুষারাবৃত হাকুবা ভিলেজে আমরা পরিবেশ সংরক্ষণের বাস্তব অভিজ্ঞতা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাই। নর্থ আল্পস ইকোপার্কে আমরা তাদের সুশৃঙ্খল বর্জ্য পৃথক্‌করণ ও পুনর্ব্যবহার পদ্ধতি সম্পর্কে শিখি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জাপানে পরিবেশ সংরক্ষণ শুধু সরকারি নীতির বিষয় নয়; এটি তাদের সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ছোটবেলা থেকেই নাগরিকদের শেখানো হয় যে পরিবেশ রক্ষায় প্রত্যেকের নিজস্ব দায়িত্ব রয়েছে। এই সামাজিক সচেতনতা জাপানের পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যের অন্যতম প্রধান কারণ। বাংলাদেশের দ্রুত নগরায়ণের প্রেক্ষাপটে এই শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অবকাঠামো ও নীতির পাশাপাশি জাপানের মানুষের আন্তরিকতা আমাদের গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। হাকুবা গ্রামে হোমস্টে (Homestay) অভিজ্ঞতা আমাদের দুই সংস্কৃতির মধ্যে এক উষ্ণ সম্পর্ক তৈরি করে। স্থানীয় পরিবারের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী খাবার ভাগাভাগি করা, তুষারাচ্ছন্ন পাহাড়ের ওপর কেব্‌ল কারে ভ্রমণ এবং বিদায়ী অনুষ্ঠানে কিমোনো (Kimono) পরিধান—এসব অভিজ্ঞতা আমাদের জাপানের বিখ্যাত আতিথেয়তা ‘ওমোতেনাশি’-এর প্রকৃত অর্থ উপলব্ধি করতে সাহায্য করেছে। ভাষা, আবহাওয়া বা অর্থনৈতিক পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আমরা বুঝতে পেরেছি যে পরিবার, সমাজ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মূল্যবোধ আমাদের উভয় দেশের মানুষের মধ্যে এক শক্তিশালী বন্ধন তৈরি করে।



Source link