কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, নির্বাচনের আগে এনসিপি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে একটি নির্বাচনী সমঝোতায় পৌঁছে। এনসিপির এই সমঝোতা হয়তো তাদের নির্বাচনী সুবিধার কথা ভেবেই করা হয়েছিল, কিন্তু কোথাও না কোথাও এই পদক্ষেপ উল্টো ফল বয়ে আনে। জামায়াতে ইসলামীর ১৯৭১ সালের ভূমিকা ও অন্যান্য ঐতিহাসিক বিতর্কের কারণে সমাজের একটি বড় অংশ তাদের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করে। ফলে যাঁরা জামায়াতবিরোধী ছিলেন, তাঁদের অনেকেই এনসিপির প্রতিও বিরূপ হয়ে ওঠেন।
ফলে যা হওয়ার তা–ই হয়, নির্বাচনটি এনসিপির জন্য সহজ হওয়ার বদলে আরও জটিল হয়ে পড়ে। অন্যদিকে বিএনপির জন্য পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত বিএনপি বড় ব্যবধানে বিজয় অর্জন করে।
‘বিকল্প নেতৃত্ব’ এবং ‘নয়া বন্দোবস্ত’-এর প্রত্যাশা নিয়ে আন্দোলন বেগবান হলেও দিনশেষে ক্ষমতায় আমরা দেখলাম দেশের রাজনীতির একটি পুরোনো রাজনৈতিক দলকেই। যদিও সরকার গঠনের পর এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে কিছু ভিন্ন উদ্যোগের ইঙ্গিত দিচ্ছেন এবং কিছু প্রচেষ্টাও দৃশ্যমান। কিন্তু বাস্তবে দেশের জনগণ যে ‘বিকল্প রাজনৈতিক নেতৃত্ব’ এবং ‘নয়া বন্দোবস্ত’-এর প্রত্যাশা নিয়ে জুলাই আন্দোলনে মাঠে নেমেছিল, তার দৃশ্যমান বাস্তবায়নের কোনো সুস্পষ্ট সম্ভাবনা এখনো তৈরি হয়নি।
তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন থেকে যায়—
বিকল্প কী পেলাম আমরা?
*লেখক: মো. ফাত্তাউর রহমান ইমন, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার, সাবেক বিতার্কিক
