ট্রাম্পের একনায়কসুলভ আচরণই বর্তমান সংকটের মূল কারণ। ঘনিষ্ঠ তোষামোদকারীদের বাইরে আর কারও সঙ্গে পরামর্শ না করে মাত্র ২১ ঘণ্টার আলোচনার পর হরমুজ প্রণালি অবরোধের নির্দেশ দেন তিনি। এ ধরনের পদক্ষেপকে সাধারণত যুদ্ধ ঘোষণার শামিল হিসেবে ধরা হয়।
ইসলামাবাদে ভ্যান্সের অবস্থানের অবাস্তব ও অপক্ব চরিত্রটি মাত্র একটি তুলনার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা যায়। ভিয়েতনাম যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তির লক্ষ্যে বিখ্যাত মার্কিন কূটনীতিক হেনরি কিসিঞ্জার ও ভিয়েতনাম কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য লে ডাক থোর প্যারিসে ১৯৭৩ সালে একটি শান্তিচুক্তি করতে চার বছর আট মাস সময় লেগেছিল।
সেখানে ভ্যান্স এক দিনের কম সময় আলোচনা করে পাকিস্তান ত্যাগ করেন। তিনি ইরানকে এই বলে সতর্ক করেন, তারা যেন যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে ‘খেলা’ না করে। যুক্তরাষ্ট্রের নিজের ইচ্ছায় চাপিয়ে দেওয়া এই যুদ্ধের ভয়াবহতাকে তিনি যেন স্রেফ একটি ভিডিও গেমের সঙ্গে তুলনা করলেন।
দুঃখজনক বিষয় হলো, ইরান ওয়াশিংটনের কোনো প্রতিশ্রুতি কেন বিশ্বাস করতে পারছে না, তা যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করেছে, তাদের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে বোঝা যায়। উত্তর কোরিয়া ও ভিয়েতনাম—এ দুই দেশের সঙ্গে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পরপর যুক্তরাষ্ট্র তা লঙ্ঘন করেছিল।
