ইমাম নিজের অপারগতার কথা জানিয়ে বললেন, ‘বাবা, আমি একজন মুসাফির মানুষ। বাইরে যাওয়ার কোনো জায়গা নেই।’

কিন্তু পাহারাদারের মন গলল না। সে একপ্রকার জোর করেই তাঁকে বাইরে বের করে দিল। রাতের অন্ধকারে পথের ধুলোয় দাঁড়িয়ে রইলেন তিনি।

রাস্তার ওপাশেই এক রুটিওয়ালার দোকান। লোকটি অনেকক্ষণ ধরে এই দৃশ্য খেয়াল করছিলেন। একজন বয়োবৃদ্ধ মানুষকে এভাবে রাতের অন্ধকারে বের করে দেওয়া হচ্ছে দেখে খুব মায়া হলো তার। দ্রুত এগিয়ে এসে ইমামের সামনে দাঁড়ালেন। বিনীত স্বরে বললেন, ‘আমি কি আপনাকে কোনোভাবে সাহায্য করতে পারি?’

ইমাম লোকটিকে নিজের সফর এবং রাত যাপনের সমস্যার কথা খুলে বললেন। রুটিওয়ালা বলল, ‘আপনি যদি চান, তবে আজকের রাতটা আমার এই ছোট ঘরে মেহমান হয়ে থাকতে পারেন। আমি রাত জেগে রুটি বানাই, আপনার কোনো অসুবিধা হবে না।’

ইমাম রাজি হলেন।

রুটিওয়ালার ঘরে গিয়ে ইমাম এক অদ্ভুত বিষয় খেয়াল করলেন। লোকটি যখন আটা মাখছে, রুটি বেলছে কিংবা চুলার তাপে রুটি সেঁকছে—প্রতিটা মুহূর্তেই তাঁর ঠোঁটদুটো নড়ছে। বিড়বিড় করে অবিরত ইস্তিগফার পাঠ করছেন। কাজের ফাঁকে এক মুহূর্তের জন্যও থামছে না তাঁর জিকির।

তাঁর এই আমলটি দেখে ইমাম আহমাদ খানিকটা বিস্মিত হলেন। কৌতূহল সংবরণ করতে না পেরে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কিছু মনে না করলে একটা কথা জানতে পারি?’

রুটিওয়ালা বললেন, ‘জি, অবশ্যই বলুন।’

ইমাম বললেন, ‘লক্ষ্য করছি, আপনি কাজের প্রতিটি মুহূর্তে ইস্তিগফার পাঠ করছেন। নিঃসন্দেহে এটি অতি উত্তম আমল। এই আমলের উসিলায় আপনি মহান আল্লাহর কাছ থেকে বিশেষ কোনো ফল পেয়েছেন কি না?’



Source link