প্যারিসের শজেলিজেতে যখন ফরাসিরা শ্যাম্পেনের ছিপি ওড়াচ্ছে, তখন ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যমগুলো এক বিস্ফোরক খবর দিল। ফাইনালের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে নাকি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন ‘দ্য ফেনোমেনন’রোনালদো।
তারপর জানা গেল, ফাইনালের আগের রাতে আচমকাই রোনালদোর শরীরে তীব্র খিঁচুনি শুরু হয়। প্যারিসের এক ক্লিনিকে তড়িঘড়ি করে তাঁর বেশ কটি ডাক্তারি পরীক্ষাও করা হয়েছিল। কোচ মারিও জাগালো আর দলীয় চিকিৎসক লিডিও টলেডো শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষায় ছিলেন। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছিল যে দুপুরের দিকে ফিফাকে দেওয়া অফিশিয়াল টিম শিটে রোনালদোর জায়গায় স্ট্রাইকার হিসেবে এদমুনদোর নাম লিখে দেওয়া হয়েছিল! কিন্তু একদম শেষ মুহূর্তে জাগালো সিদ্ধান্ত বদলান। কোচের দাবি ছিল, রোনালদো নিজেই তাঁর কাছে এসে খেলার আকুতি জানিয়েছিলেন।
তবে ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম এ গল্প গিলতে রাজি ছিল না। তাদের বিশ্বাস ছিল, ব্রাজিলের ফুটবল কনফেডারেশনের তৎকালীন সভাপতি রিকার্দো তেইসেইরার চাপে জাগালো এ কাজ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। এমনকি ফাইনালের ঠিক আগে সেন্ট-দেনি স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে জাগালো আর তেইসেইরার মধ্যে তুমুল চিৎকার-চেঁচামেচি হয়েছিল, এমন খবরও চাউর হয়। এর পেছনে দলটির অফিশিয়াল কিট স্পনসর নাইকির বাণিজ্যিক চাপ ছিল বলেও গুঞ্জন ওঠে।
অবশ্য নাইকির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়, ‘দল কেমন হবে, সে বিষয়ে নাইকি কখনোই কোনো মতামত বা প্রভাব খাটায় না’।
পরে নিজের সেই অসুস্থতা নিয়ে রোনালদো বলেছিলেন, ‘স্টেডিয়ামে যখন আসি, আমি ঠিকঠাকই ছিলাম এবং খেলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার আসলে কী হয়েছিল, আমি নিজেই জানি না। রবার্তো কার্লোস অনেক বেশি মানসিক চাপের কথা বলেছিল। হয়তো সেটাই, আবার অন্য কিছুও হতে পারে। কিছু সাংবাদিক লিখেছিল, আমি নাকি ভয়ে এমন করেছি। এগুলো আমার নামে লেখা অসংখ্য মিথ্যের একটা।’
আসলে ব্রাজিলের ক্রীড়া ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রহস্যের জন্ম হয়েছিল ওই রাতে!
