নিষিদ্ধ নয়, তবু নিষিদ্ধ যে আলোচনা
এই যে চীনের তরুণ প্রজন্ম তিন দশকের বেশি সময় আগে তিয়েনআনমেন স্কয়ারে ঘটে যাওয়া সেই নৃশংসতা সম্পর্কে কিছুই জানে না, তার পেছনে রয়েছে রাষ্ট্রীয় সূক্ষ্ম সেন্সরশিপ। দেশটিতে পাঠ্যপুস্তকে সেদিনের ঘটনা নিয়ে একটি শব্দের উল্লেখও নেই। চীনের অনলাইন সার্চ ইঞ্জিনগুলোতে এ সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। সেখানে এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয় না।
এমন নয় যে দেশটিতে কোনো আইন করে তিয়েনআনমেন স্কয়ার নিয়ে আলোচনা নিষিদ্ধ। তবে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে আলোচনার খেসারত হিসেবে আপনাকে চাকরি হারাতে হতে পারে, গ্রেপ্তার হতে পারেন বা একদিন স্রেফ গায়েব হয়ে যেতে পারেন।
চীনে ইন্টারনেটে বেনামেও এ নিয়ে আলোচনা সম্ভব নয়। কারণ, দেশটিতে আইন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টগুলো প্রকৃত নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বরের সঙ্গে সংযুক্ত; আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলো তাদের গ্রাহকদের যেকোনো ব্যক্তিগত তথ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিনিময় করতে বাধ্য থাকে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) প্রযুক্তিতে তরতর করে এগিয়ে চলছে চীন। তিয়েনআনমেন স্কয়ারের স্মৃতি মুছে দিতে চীন সরকার এখন এআই প্রযুক্তির সহায়তাও নিচ্ছে।
গত বছর প্রকাশিত এবিসির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, এবিসি চীনের তৈরি এআই চ্যাটবট ‘ডিপসিক’–এর কাছে তিয়েনআনমেন হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল। উত্তরে ডিপসিক বলেছিল, এ বিষয়টি আমার বর্তমান আলোচনার পরিধির বাইরে। আসুন, অন্য কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলি।
তিয়েনআনমেন স্কয়ার নিয়ে কথা বলার কারণে চীনে অনেককে কারাবন্দী হতে হয়েছে। তাঁদের একজন মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা চীনা আইনজীবী চো হাং–তুং। ২০২১ সালে তাঁকে হংকং থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
