আমচাষিদের অভিযোগ, এ বছর বাইরের জেলার পাইকারি ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। সাধারণত প্রতিবছর ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারেরা সরাসরি বাগানে এসে আম কিনে নিয়ে যান। এতে প্রতিযোগিতা তৈরি হওয়ায় দামও ভালো পাওয়া যেত। কিন্তু এ বছর জেলায় বাইরের পাইকার আসছে খুবই কম।

চাষিরা জানান, পাইকার কম আসার অন্যতম কারণ পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি। পাহাড়ি জেলা হওয়ায় খাগড়াছড়ি থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্য পরিবহনে তুলনামূলক বেশি খরচ হয়। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, যানবাহনের ভাড়া বৃদ্ধি এবং পথে নানা ধরনের অতিরিক্ত খরচ পাইকারদের পাহাড় থেকে আম কিনে নিয়ে যেতে নিরুৎসাহিত করছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে আমের বাজারে।

স্থানীয় ফল ব্যবসায়ী মো. মেহেদি হাসান, রবিউল ইসলাম ও আইয়ুব আলী বলেন, খাগড়াছড়ি থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, ফেনী বা দেশের বড় বাজারগুলোয় আম পরিবহনে যে খরচ হয়, তাতে লাভ করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ফলে দূরের পাইকারেরা কম দামে আম কিনতে চান। আর সেই চাপ গিয়ে পড়ে উৎপাদনকারীদের ওপর।

জেলার ফল ব্যবসায়ী ও চাষিরা জানান, খাগড়াছড়ি থেকে অন্য জেলায় আম পরিবহনের সময় পৌরসভা ক্রেটপ্রতি (২০ থেকে ২২ কেজি) ১০ টাকা হারে টোল আদায় করে। ফলে দুই হাজার কেজি আমবাহী একটি পিকআপ ভ্যানের টোল দিতে হয় ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা। এরপর জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন ‘বাজার ফান্ড’ চেঙ্গী সেতু এলাকায় আবারও ক্রেটপ্রতি ১০ টাকা করে আদায় করে। একই সংস্থা খাগড়াছড়ি থেকে বের হওয়ার পথে রামগড়ের সোনাইপুল ও মানিকছড়ির গাড়িটানা এলাকায় গাড়িপ্রতি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা টোল নেয়। এ ছাড়া বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠনও চাষি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে বলে অভিযোগ রয়েছে।



Source link